গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৬টি সংশোধনী আনা হয়েছে। সেসব সংশোধনীর প্রথম ৫টি সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়ে আজকের আয়োজন:

প্রথম সংশোধনী : ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৩ গৃহীত হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে একটি অতিরিক্ত দফা সংযুক্ত করা হয়, যা ‘গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ’-এর দায়ে যে কোনো ব্যক্তির বিচার ও শাস্তি অনুমোদন করে। ৪৭ অনুচ্ছেদের পরে একটি নতুন অনুচ্ছেদ ৪৭ক সংযুক্ত করা হয়, যাতে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয় যে, উপরে বর্ণিত অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে কতিপয় মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য হবে না।

দ্বিতীয় সংশোধনী: সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৩ গৃহীত হয় ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। এই আইনের ফলে (১) সংবিধানের ২৬, ৬৩, ৭২ ও ১৪২ নং অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়; (২) ৩৩ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, এবং (৩) সংবিধানে একটি নতুন ভাগ, যথা ভাগ ৯ক সংযুক্ত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে নাগরিকদের কতিপয় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়।

তৃতীয় সংশোধনী : সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন ১৯৭৪ বলবৎ হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর। এর দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কতিপয় ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।

চতুর্থ সংশোধনী: সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন ১৯৭৫ গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধানে কতিপয় বড় পরিবর্তন আনা হয়। সংসদীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়; বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থলে আনা হয় একদলীয় ব্যবস্থা; জাতীয় সংসদের কতক ক্ষমতা খর্ব করা হয়; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়; সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়। এই আইন দ্বারা (১) সংবিধানের ১১, ৬৬, ৬৭, ৭২, ৭৪, ৭৬, ৮০, ৮৮, ৯৫, ৯৮, ১০৯, ১১৬, ১১৭, ১১৯, ১২২, ১২৩, ১৪১ক এবং ১৪৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়; (২) ৪৪, ৭০, ১০২, ১১৫ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করা হয়; (৩) সংবিধানের তৃতীয় ভাগ সংশোধন করা হয়; (৪) তৃতীয় ও চতুর্থ তফসিল পরিবর্তন করা হয়; (৫) প্রথম জাতীয় সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়; (৬) রাষ্ট্রপতির পদ ও এই পদের প্রার্থী সম্পর্কে বিশেষ বিধান করা হয়; (৭) সংবিধানে একটি নতুন (একাদশ) ভাগ সংযুক্ত করা হয়; এবং (৮) সংবিধানে ৭৩ক ও ১১৬ক অনুচ্ছেদ দুটি সংযুক্ত করা হয়।

পঞ্চম সংশোধনী: এই সংবিধান আইন জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। এই আইন দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয় এবং তাতে ১৮ প্যারাগ্রাফ নামে একটি নতুন প্যারাগ্রাফ যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয় যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখসহ ওই দিন থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত (ওই দিনসহ) সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের যে কোনো ঘোষণা বা আদেশ বলে সম্পাদিত সংবিধানের সকল সংশোধনী, সংযুক্তি, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন ও বিলুপ্তি বৈধভাবে সম্পাদিত বলে বিবেচিত হবে এবং কোনো কারণেই কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে এসবের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।