মুসলিম আইনে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। তবে বিয়েটি বাতিল বলে গণ্য হবে না।

১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজির কাছে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম এখনো চালু হয়নি।

এ ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে অনেকে ভালোভাবে জ্ঞাত নন। মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে প্রমাণ করা কঠিন।

রেজিস্ট্রেশন করা না থাকলে মেয়েরা প্রতারিত হতে পারে। সব বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা আবশ্যক। দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি করা কাবিননামা একটি আইনগত দলিল।

এ ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের গুরুত্ব পারিবারিক জীবনে অপরিসীম। রেজিস্ট্রেশন বিয়ের বর-কনে উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নারীদের জন্য।  বিবাহ সম্পর্কিত কোনো জটিলতা বা প্রমাণের প্রশ্ন উঠলে এই রেজিস্ট্রেশনই প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে।

রেজিস্ট্রেশন হলে অনেকাংশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয়। কারণ কাবিননামায় প্রমাণপত্রসহ বয়স উল্লেখ করতে হয়।

এ ছাড়া নারীর সুরক্ষায় বিয়ের নিকাহনামা বা কাবিননামা একটি সত্যতা প্রমাণের দলিল। কাবিননামা হলো মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে একটি চুক্তিপত্র বা দলিল।

খ্রিস্টান বিয়ের ক্ষেত্রেও একই রকম। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে অনেক হিন্দু নারী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

মুসলিম বিয়েতে সবচেয়ে ভালো হয় বিয়ের দিনই বিয়েটি রেজিস্ট্রি করানো। বিয়ের অনুষ্ঠানে সবার উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রেশন করলে তার সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।

নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) নিজে বিয়ে পড়ালে বিয়ের দিনই তিনি বিয়েটি রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কাজি নিজে বিয়ে না পড়ান বা কোনো কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করাতে হবে।

এদিকে, অনেক ক্ষেত্রে কাজি নিজে বিয়ে রেজিস্ট্রি না করে তার সহকারীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করান। সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময়  কাজির কিছু বিষয় সাবধানতার সাথে খেয়াল রাখতে হয়।  বিষয়গুলো হলো : বরের বয়স কমপক্ষে ২১ এবং কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হয়েছে কি না, বর ও কনের বিয়েতে পূর্ণ সম্মতি আছে কি না, বিয়ের প্রকৃত সাক্ষী,আশু ও বিলম্বিত দেনমোহর।

বিয়েতে উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল কাজি (নিকাহ রেজিস্ট্রার) বিয়ে রেজিস্ট্রি করবেন। তবে তিনি কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার তালাক-ই-তৌফিজের) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল করবেন।