একাদশ সংশোধনী: এই আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট। এ আইনবলে সংবিধানের চতুর্থ তফসিল সংশোধন করা হয় এবং তাতে ২১ নং নতুপ্যারাগ্রাফ সংযুক্ত করা হয়; এই প্যারাগ্রাফ বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নিয়োগ ও শপথ গ্রহণ এবং ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর নিকট রাষ্ট্রপতি এইচ.এম এরশাদের পদত্যাগ পত্র পেশ, এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস কর্তৃক ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণকে বৈধতা দান করে। এই সংশোধনী আইন ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর সময়কালের মধ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে উপ-রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রয়োগকৃত সকল ক্ষমতা, প্রবর্তিত সকল আইন ও অধ্যাদেশ, জারিকৃত সকল আদেশ ও আইন এবং গৃহীত সকল পদক্ষেপ ও কার্যপ্রণালীকে অনুমোদন দেয়, নিশ্চিত করে ও বৈধতা দেয়। এই আইন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের পূর্ববর্তী পদ, অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদে প্রত্যাবর্তনকে সম্ভব করে ও এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়।

দ্বাদশ সংশোধনী :বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে খ্যাত এই সংশোধনী আইন পাস হয় ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট। এর দ্বারা সংবিধানের ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৭০, ৭২. ১০৯, ১১৯, ১২৪, ১৪১ক এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে; রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী; প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হয়; উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলোপ করা হয়, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়। তাছাড়া, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই আইনে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, যা দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

ত্রয়োদশ সংশোধনী: সংবিধান আইন ১৯৯৬ (ত্রয়োদশ সংশোধনী) পাস হয় ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ। এর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে কাজ করবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। একজন প্রধান উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিতব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের তারিখে বিলুপ্ত হবে।

চতুর্দশ সংশোধনী: সংবিধান আইন ২০০৪ (চতুর্দশ সংশোধনী) পাস হয় ২০০৪ সালের ১৬ মে। এই সংশোধনী দ্বারা অপরাপর বিষয়ের সঙ্গে নিম্নোক্ত বিধান সংযোজন করা হয় :জাতীয় সংসদে পরবর্তী দশ বছরের জন্য মহিলাদের জন্য সংরক্ষি ষোড়শ ত আসন ৩০ থেকে ৪৫-এ বর্ধিতকরণ; সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরগ্রহণের বয়স ৬৫ বছরের স্থলে ৬৭ বছর নির্ধারণ; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অফিসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অফিস এবং বিদেশে কুটনৈতিক মিশনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী :সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন। এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

ষোড়শ সংশোধণী: সংসদ সদস্য কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের অপসারনের ক্ষমতা সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করে ২২সেপ্টেম্বর ২০১৪সংবিধানের ষোড়শ সংশোধণী পাশ করা হয় । এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা (২),(৩),(৪),(৫),(৬),(৭)ও(৮) এর সংশোধনী আনা হয় ।