ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সরোয়ার মাতুব্বার (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় সংঘর্ষকারীরা।

আজ রোববার সকালে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষ্মণদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।সরোয়ার লক্ষ্মণদিয়ার পাশে বনগ্রামের মৃত খাদেম মাতুব্বারের ছেলে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৫৭টি রাবার বুলেট ও ৬২টি কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলুর সঙ্গে লক্ষ্মণদিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর মাতুব্বারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

এর জের ধরে গতকাল বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। আজ সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ঢাল-কাতরা, সড়কি-ভেলা, রামদা-ছোরা, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে ১০টি বসতঘর ভাঙচুর, চার/পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট করে সংঘর্ষকারীরা।

এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চেয়ারম্যানের সমর্থক সরোয়ার মাতুব্বর ঘটনাস্থলে মারা যান। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।