‘ডায়ানা, হার ট্রু স্টোরি’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালের ৭ জুন। বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে যায় বইটি পড়ে। কেননা,ওই বইতে প্রিন্সেস ডায়ানা নিজের অসুখী বৈবাহিক সম্পর্কের বয়ান করেন লেখক অ্যান্দ্রু মরটনের কাছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাসাদে টেপ রেকর্ডার নিয়ে প্রবেশ করে রীতিমতো ইতিহাস হয়ে যান সাংবাদিক অ্যান্দ্রু মরটন।

ডায়ানার বিয়ে হয়েছিলো ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই। সম্ভবত বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত বিবাহ অনুষ্ঠান ছিলো প্রিন্স চার্লস ও লেডি ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠানটি। বিবাহের মাধ্যমে প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস পদে ভূষিত হন এই দম্পতি।

এই রাজকীয় দম্পতির প্রথম সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম জন্ম নেন ১৯৮২ সালের ২১ জুন, এর দুই বছর পর জন্ম নেন প্রিন্স হ্যারি,। দুই সন্তানের মমতাময়ী মায়ের ভূমিকা নিয়ে নেন তরুণী ডায়ানা, চেষ্টা করেন সুখী একটি পরিবার গড়ে তুলতে।

কিন্তু ১৯৯৬ সালে,এই রাজকীয় বিয়ে ভেঙ্গে যায় ১৫ বছরের মাথায়।

তার আগেই অ্যান্দ্রু মরটনের কাছে নিজের অসুখী বিবাহ ও রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের  তিক্ততার কথা প্রকাশ করে অভূতপূর্ব সাহসের পরিচয় দেন তিনি। ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে তার স্বামী চার্লসের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা অকপটে জানান ডায়ানা, যা রাজপরিবারের ইতিহাসে এর আগে কখনই ঘটেনি।

ডায়ানা নিজে অভিজাত পরিবারে জন্মাননি। ১৯৬১ সালের  পহেলা জুলাই, স্পেন্সার পরিবারে তার জন্ম । তার কুমারী নাম ছিল ডায়ানা স্পেন্সার।পরিবারটি ছিলো রাজপরিবারের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ।ডায়ানার শৈশব কেটেছে প্রিন্স আন্দ্রু আর প্রিন্স এডওয়ার্ডের সঙ্গে খেলাধুলা করে।

ডায়ানার পিতামহী ছিলেন রাণী এলিজাবেথের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।সে সময় থেকেই হয়তো তাকে রাজপরিবারের বধূ করার পরিকল্পনা ছিলো রাণীর।সম্ভবত, সে কারণেই ১৯৭৫ সালে স্পেন্সার পরিবারকে আর্ল অব স্পেন্সার পদবিতে ভূষিত করা হয় এবং ১৯৮১ সালে ডায়ানাকে পরিবারের বধূ হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়।

মাত্র ২০ বছর বয়সে রাজপরিবারের বধূ হয়ে অভিজাত পরিবারের নিয়মকানুন শিখে নেন তিনি। সৌন্দর্য, স্টাইল ও মধুর স্বভাবের জন্যই শুধু নয়, বিশ্বমানবতার জন্য কাজ করেও তিনি জায়গা করে নেন পুরো পৃথিবীর মানুষের মনে।স্থল মাইনের ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রচারণা চালান রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা।

তার মৃত্যুতেও হতভম্ব হয়ে যায় বিশ্ববাসী। ডায়ানা মারা যান ১৯৯৭ সালের ৩০ অগাস্ট, প্যারিসে, এক গাড়ি দুর্ঘটনায়। পাপারাজ্জিদের এড়াতে একটি টিউবে ঢুকে যায় গাড়িটি। ডায়ানার সঙ্গে ছিলেন তার তৎকালীন প্রেমিক মিসরীয় ব্যবসায়ী ডোডি আল-ফায়াদ। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রিন্সেস অব ওয়েলস। গাড়ির চালক ও ডোডি ঘটনাস্থলেই মারা যান, তাদের দেহরক্ষী গুরুতর আহত হন। ময়নাতদন্তে গাড়ির চালকের পেটে অস্বাভাবিক মাত্রার অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

তা সত্ত্বেও ডায়ানার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেননি অনেকেই। এ সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নানা অনুমান ও কন্সপিরেসি থিওরি। অনেকেরই ধারণা মার্সিডিজ গাড়িটির চালক হেনরি পল ছিলেন গোয়েন্দা সংস্থার লোক। এমনকি রাজপরিবারের সাবেক বধূ খৃষ্টান নয়, এমন কাউকে বিয়ে করবেন এই সম্ভাবনা মেনে নিতে পারেনি ব্রিটিশ রাজপরিবার। তাই নিজেদের আভিজাত্য বাঁচাতেই ডায়ানাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়।এমনকি অনেকে এমনও মনে করেন প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন ডায়ানার আপন বোন লেডি সারাহও।

তার মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক, কিন্তু এই রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।