এক সময় ছিলেন পাড়ার মস্তান, পরে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন ভয়ংকর ছিনতাইকারী; কথায় কথায় গুলি করাও তার অভ্যাস।

মো. ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পু নামে দুই ডজনের বেশি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার সম্পর্কে এসব তথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর ‘টেম্পু’ সম্পর্কে বলেন,নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত টেম্পু দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। শনিবার রাতে নগরীর হিলভিউ আবাসিক এলাকা থেকে পাঁচ সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি ছুরি ও চারটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

তার সহযোগীরা হলেন- মো. সোহেল, জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না, রবিউল ইসলাম মানিক, ইলিয়াছ কাঞ্চন ওরফে কাঞ্চন ও মো. তৌহিদ।

২৮ বছর বয়সী টেম্পুর বিরুদ্ধে নগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী ও জেলার হাটাহাজারি থানায় টেম্পুর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা আছে বলে পুলিশের তথ্য।

পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালী জানান, পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে টেম্পু আবার ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ত। নগরীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে।

টেম্পু পুলিশকে জানায়, তার বাবা ছিলেন টেম্পু চালক। বাবার সাথে টেম্পুতে কাজ করায় তার নাম হয়ে যায় টেম্পু। যে নামে তিনি সবার কাছে পরিচিতি পায়। তারা চার ভাইয়ের সবাই ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত।

’বড় দুই ভাই খোকন ও ইদ্রিস কারাগারে আছেন, ছোট ভাই সোহাগও বর্তমানে পলাতক।’

২০০৭ সালে খতিবের হাট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত সে। পরে সে একটি দল তৈরি করে। ওই এলাকায় কেউ বাড়ি করতে গেলে তাদের কোছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। টাকার হিসাব না মিললে গুলি করত।

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালী বলেন, চাঁদাবাজিতে টেম্পু একটি গ্রুপ গড়ে তোলে। আগে সে নিজে গিয়ে চাঁদাবাজি করলেও পরবর্তীতে তার গ্রুপের সদস্যরা গিয়ে তার নামে চাঁদা আদায় করত এবং তাকে একটি ভাগ দিত।

অন্তত ১০ বার সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ২০১৪ সালে চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়া এলাকায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে গুলি করে। এর পর থেকে সে ডান পায়ে খোঁড়া অবস্থায় আছে।

“একসময় তার দলে ৫০ জনের বেশি সদস্য থাকলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তারা দল ছেড়ে গিয়ে অনেকে নতুন গ্রুপ তৈরি করে। যারা এখন নগরীতে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত।”

প্রায় ১৯ মাস কারাগারে থেকে চলতি বছরের শুরুতে জামিনে ছাড়া পায় টেম্পু। তারপর সে আবারও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

টেম্পু পুলিকে আরও জানান, সে ও তার সহযোগী সোহেল বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই ছিনতাই করে।

সম্প্রতি বাদুরতলা এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে ও তার সহযোগী তৌহিদ মিলে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে।