নুরুল করিম জুয়েল ছাত্র রাজনীতিতে অনন্য একটি নাম। যার ছাত্ররাজনীতির শুরুর পেক্ষাপট ১৯৯৬সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়ার প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তখন তিনি স্কুল ছাত্র।

নুরুল করিম জুয়েেলর বাবা তখন ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগ (কোম্পানীগঞ্জ) নেতা। তার গৃহ শিক্ষকও ছিলেন একজন ছাত্রনেতা। বাবা ও গৃহ শিক্ষকের নিকট বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনতে শুনতে ছোটকাল থেকেই আওয়ামী লীগ কে ভালোবাসতে শেখেন এবং ছাত্রলীগের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তার হৃদয়ে তৈরী হয়। তার দাদা মরহুম নুরুল ইসলামও আওয়ামী লীগকে ভালোবাসতেন; যে কারণে পরিবার থেকেই তিনি রাজনীতি শিক্ষা পান। ফলে ছোটকালেই ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে দেখতে পারা তার কাছে স্বপ্নে পরিণত হয়।

তৎকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব রশিদ মঞ্জু, রফিকুল ইসলাম বাবুল, আব্দুল মালেক আজাদ, এনামুল হক হকসাব, হুমায়ুন কবির শাহজাদা, শেখ ফরিদ, লিটন সিনিয়রদের মধ্যে রফিক খান, খোরশেদ আলম, আইয়ুব আলী, নুরুল আমিন বছির, ইব্রাহীম খলিল খোকন, শরিয়ত উল্যাহ সহ আরও অনেকের অনুপ্রেরনায় তিনি ছাত্র রাজনীতির দিকে এগিয়ে যান। সেই থেকেই তার সফল রাজনীতিতে পদার্পন। তার এলাকায় আওয়ামী লীগের আন্দোলন শুরু হলে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে রাজপথ প্রকোম্পিত হত।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগ প্রহসনের নির্বাচন বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে এর প্রভাব নোয়াখালীর কোম্পাগঞ্জেও পড়ে। ফলে কোম্পানীগঞ্জের সর্স্তরের জনগণের সাথে ছোট ছোট বঙ্গবন্ধু প্রেমী ছাত্ররাও এতে অংশগ্রহণ করে। নুরুল করিম জুয়েলের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জন্য সংগ্রামী জীবন শুরু হয় তখন থেকেই। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নির্বাচনের সময় ওবায়দুল কাদের(এমপি)-র নির্বাচনী মিছিল ও জনসভায় প্রতিনিয়ত চলে যেতো এই তরুণ ছাত্র নেতা। এমনও হতো যে মাঝে মাঝে স্কুল পালিয়েও তিনি চলে যেতেন নির্বাচনী জনসভায়। একদিন জনসভায় যাওয়ার পর ছোট্ট জুয়েল বাড়ী ফিরে আসার পথে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তখনকার ছাত্রলীগ নেতা লিটন তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে এবং ঐবার তার বাবা ইউপি সদস্য (কোম্পানীগঞ্জ) নির্বাচিত হন। নুরুল করিম জুয়েল তখন হাই স্কুলের ছাত্র। ‘১৯৯৭ সালে তখন তিনি হাই স্কুলের ছাত্র। তখন ছাত্রলীগ স্কুল কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটিতে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৯৭ সালে হাজারীহাট হাই স্কুল এন্ড বি. এম কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দেয়ার পর ২০০৩ সালে তাকে চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর ২০০৪ সালে চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ছাত্রলীগ’কে নেতৃত্ব প্রদান করতে থাকেন। এরপর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য হন ও তেজগাঁও কলেজে সক্রিয় রাজনীতি করেন এবং ২১শে আগষ্ট বাংলাদেশ সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন। সহ-সম্পাদক থাকা কালে ছাত্রলীগের কর্মদক্ষতার মুল্যায়ন স্বরুপ ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এভাবেই নুরুল করিম জুয়েলের রাজনীতির পথচলা।

এই জনপ্রিয় ছাত্রনেতার রাজনীনৈতিক জীবন কখনো মসৃণ ছিল না। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়ত জোট সরকার গঠন করে। ঐ বছরের ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগ করার অপরাধে তাকে প্রচন্ড মারধর করা হয়। বোমাবাজি-সহ নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দেয়া হয় তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। লুটপাট ও ভাঙ্গচুর করা হয় তাদের দোকান দোকানপাট। এমনকি তখন তৎকালিন বিএনপি জামাতের লোকেরা নিজেরা বোমা ফাটিয়ে থানায় তার নামে মিথ্যা অভিযোগ করে। এ ছাড়াও ওবায়দুল কাদের (এমপি) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় রাতে পোষ্টার লাগানোর অপরাধে পরের দিন তাকে বাড়ী থেকে উঠিয়ে এনে বেদম মারধর করা হয়। এভাবে নুরুল করিম জুয়েলের রাজনীতির পথচলা চলতে হয়। বি এন পি ক্ষমতা আসার পর তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তাকে এরকম অনেক ধরণের বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। ঢাকা এসেও থেমে থাকেননি তিনি। তখন নিয়মিত চলে যেতেন পল্টন ময়দানে। এইসময় কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম-এর মাধমে তৎকালিক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু-এর সাথে তার পরিচয় ঘটে। ছোট হওয়ায় সবাই তাকে আলাদাভাবে স্নেহ করতেন। নিয়মিত পল্টনে মিছিল মিটিংয়ে থাকতেন সবার সাথে।

২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড় হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে শত শত নেতা কর্মীর সাথে তিনিও ভর্তি হয়েছিলেন শিকদার মেডিকেলে। তখন থেকেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদের-এর সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ শুরু । এরপর আবারও ২০১১ সালে মে মাসে জামায়াত-বিএনপির রোষানলে পড়ে তার পুরো পরিবার। রাতের অন্ধকারে বি এন পি-জামায়াত এক বর্বরোচিত হামালা চালায় তার পরিবারের ওপর। অল্পের জন্য প্রাণে বেচে যায় সেদিন তার মা ও তিনি নিজে। এতে তার পরিবারের অন্যরাও আহত হন। ঐ সময় প্রতিটি দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ২৩ দিন ভর্তি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অতীত স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘আমার “মা” আমাকে বাঁচাতে গিয়ে মাথায় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে ৫দিন ভর্তি ছিলেন বসুরহাট নার্সিং হোমে। যে আঘাত এখনো মাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ছোট ভাইবোনরা ভয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে’। এখনো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে জীবনে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে তাকে। ১/১১-র সামরিক শাসনামলে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন মিছিলে ঢাকার রাজপথে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহন ছিলো এ তুখোড় ছাত্রনেতার এবং এছাড়াও মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-এর ভাইয়ের মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য সার্বিকভাবে সর্বক্ষণিক তিনি পাশে থেকেছেন।

২০০১ সালে বি এন পি জামাত ক্ষমতা আসার পর ছাত্রলীগ করার কারনে তাকে এস.এস.সি পরিক্ষা দিতে দেয়নি তৎকালীন বি এন পি-জামায়াত সরকার। তার পর বিভিন্ন নির্যাতনের কারনে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন পরিবারসহ। হাজারীহাট বাজারে তার বাবার দোকান ভাঙ্গচুর করার প্রতিবাদ করায় দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় একদিন জেল ও খাটতে হয় তাকে। তার পর বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন এই ছাত্রনেতা। ঢাকা এসে থেমে থাকেননি এই নেতা। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হন ফরিদপুরের রহমান ইরানের হাত ধরে। সর্বশেষ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার রাতে তার বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কাদের মোল্লার ফাঁসির দিন আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় তাদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস-সহ আসবাবপত্র।

অন্যদিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাযক্রমের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন এই ছাত্রনেতা। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের দায়িত্বেও তিনি নিয়োজিত রয়েছেন। এরমধ্যে হাজারী হাট হাই স্কুল এবং বি এম কলেজ-এর তিনি দাতা সদস্য। তিনি হাজারী হাট আলীম মাদ্রাসা এবং চর পার্বতী আছিয়া কারম্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটিরও সদস্য।
গত কয়েক বছর এলকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের মাধ্যমে জয় করে নেন এলাকার সাধারণ মানুষের মন। বাবা নুরুল হুদা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি হওয়ায় নানান সময় দেখা যায় এলাকার মানুষের অভাব অভিযোগ নিজেকে শুনতে হয়। এভাবে বাবা ছেলের সমন্বয়ে এগিয়ে চলছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। উল্লেখ্য সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে তরুন এই ছাত্র নেতা বিগত পাঁচ বছর যাবৎ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছেন এবং এতিম অসহায় ছাত্রদের নানাভাবে সহযোগীতা করে আসছেন। বাবা ছেলে মিলে গ্রামে এতিম খানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং একটা মসজিদ তৈরি করেছেন। তিনি দিন রাত নিজেকে সাংগঠনিক কাজে জেলা টু জেলা, ইউনিট টু ইউনিট,দপ্তর টু দপ্তরে নিয়োজিত রাখছেন। দেখা যায় প্রয়োজন ব্যাতীত নিজেকে ভোগ বিলাসিতা থেকে দূরে রাখছেন। মাঝে মাঝে আপোসহীন পরিশ্রমী এই নেতাকে পাঁয়ে হেঁটেও গন্তব্যে পোঁছাতে দেখা যায়।

ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি হওয়ার প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করান এছাড়াও তিনি ঐতিহাসিক সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এর উপস্থিতিতে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি দিতে সক্ষম হন। ইতোমধ্যে নোয়াখালী জেলা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন-সহ কবিরহাট, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ সুবর্ণচর উপজেলা, চৌমুহনী কলেজ, পৌরসভার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে তিনি কেন্দ্রে একাধিক মিটিং করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা মুন্সিগঞ্জ ইউনিটকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে বার বার জেলা সফর করেন,একাধিকবার মতবিনিময় সভা করেন।

ইতোমধ্যে নিজ এলাকা-সহ অনেকগুলো মাদ্রাসায় ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

 

ahmad//