নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের এক ইমামকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় দায়ের কোপের আঘাতে মসজিদের এক মুসল্লি আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার মাঝিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমামের নাম আবদুল মজিদ মুন্সী। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইলে নাগরপুর উপজেলা সদর এলাকায়। তিনি ২০-২২ বছর ধরে গোবিন্দপুর মাঝিপাড়ায় বসবাসের পাশাপাশি মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার জামাত শেষে আবদুল মজিদ সুন্নত নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে জহিরুল হক নামের এক ব্যক্তি এসে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি তাঁকে কোপায়। বাঁধা দিতে গেলে মুসল্লি হাবিবুর রহমানকেও কুপিয়ে পালিয়ে যায় জহিরুল।

পরে স্থানীয় লোকজন তাদের দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইমাম আবদুল মজিদ মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

ইমাম আবদুল মজিদের ছেলে জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, ‘বাবা জামাতের নামাজ শেষ করে নিজে নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় জহিরুল হক বাবার ঘাড়ে দা দিয়ে কোপ দেয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয়রা দাবি করেছে জহিরুল হক মানসিক ভারসাম্যহীন।

কয়েক বছর আগে নিজের স্ত্রীকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে জহিরুলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জহিরুল হককে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ওসি জানান।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়েছে।