সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন হলো, ‘প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা করে বা ইচ্ছা করে, প্রশ্নের মাধ্যমেই তার ইঙ্গিত দেয়া হলে তাকে ‘ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন’ বলে।’ আরো সহজভাবে বলতে গেলে প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর রাখা হয় যে প্রশ্নে।

যেমন : ‘আপনি কি ২৮ তারিখে বিকালবেলায় পিরোজপুর গিয়েছিলেন?’ জবাবটি হ্যাঁ অথবা না কিংবা মাথা নাড়িয়েও জবাব দেয়া যায় বলেই প্রশ্নটিকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।

জবানবন্দি বা পুনঃজবানবন্দি গ্রহণকালে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা একেবারে নিষিদ্ধ হলেও কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি ও পুনঃজবানবন্দির সময় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম করা হয়েছে।

ব্যতিক্রমগুলো হলো:

(১) বিরুদ্ধ পক্ষ আপত্তি উপস্থাপন করতে না পারলে বা আপত্তি না থাকলে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(২) সাক্ষীকে প্রশ্ন করার আগে খানিকটা ভূমিকার অবতারণা করার প্রয়োজনে ভূমিকা বিষয়ে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(৩) প্রমাণিত বা বিরোধ নেই এমন বিষয়ে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(৪) কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শনাক্ত করার প্রয়োজনে সাক্ষীর দৃষ্টি বা বস্তুর দিকে আকর্ষণ করে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(৫) সাক্ষীর স্মৃতিতে প্রশ্নের জবাব উদিত না হলে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(৬) সাক্ষী যদি শিশু, মূর্খ অথবা প্রশ্ন বুঝতে অক্ষম হয়; তবে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়।

(৭) বৈরী সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন।

সাধারণত বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিষয়গুলো বিবেচনা করে অনুমতি দিয়ে থাকে। জবানবন্দির ক্ষেত্রে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি না থাকলেও জেরায় বিরুদ্ধ পক্ষ সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করতে পারেন। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৩ অনুযায়ী, ‘জেরায় ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে।’ যেমন : ‘ঘটনাস্থলে রাস্তার বাতিগুলো জ্বলছিল, তাই নয় কি?’, ‘আসামি তখন কালো কোট পরিহিত ছিল, তাই না?’, ‘সড়কটিতে ছিনতাইকারীদের অনেক উপদ্রব তাই না?’

জেরা করার মূল উদ্দেশ্য হলো;

(১) বিপরীত সাক্ষ্যকে দুর্বল করা।

(২) সাক্ষীর কাছ থেকে পক্ষে কিছু বক্তব্য আদায় করা।

(৩) সাক্ষী যে বিশ্বাসের অযোগ্য, ভুল বা মিথ্যা এটি প্রদর্শন করা।

(৪) সাক্ষীর দেয়া সাক্ষ্যকে সন্দেহযুক্ত করা।