বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) আজ থেকে ১৪শত বছর আগেই বলে গিয়েছেন, “উত্তরাধিকার আইন নিজে জানো ও অপরকে শেখাও, সকল জ্ঞানের অর্ধেক হল এই জ্ঞান”।

মুসলিম আইনের বিধান বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। মুসলিম আইনে সন্তানের উত্তরাধিকার জন্মসূত্রেই সুস্পষ্ট, যা কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না। পিতা-মাতার কাছে তার সন্তান প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক এবং মুসলিম আইনেও তাদের উত্তরাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। মুসলিম আইন রক্তের সম্পর্কিত এবং বিয়ের মাধ্যমেই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়, তাছাড়া অন্য কোনোভাবে অর্জিত অধিকার স্বীকার করে না।

পবিত্র কোরানের সুরা নিসার ৭নং আয়াতে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশি।

মুসলমানদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এদেশে মুসলিম শরিয়া ল’ অনুসরণ করা হয়, যা এখন সাকসেশন এক্ট ১৯২৫ এর অধীনে বিধিবদ্ধ। সে অনুযায়ী মুসলিম আইনে কিছু ক্ষেত্র বিশেষ কারণে একজন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। (আলোচনার সুবিধার্থে বলে রাখা ভালো যে, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের মূল উত্‍স হলোঃ ১.কোরআন, ২.হাদিস, ৩.ইজমা, ৪.কিয়াস। বিধিবদ্ধ আইন হিসাবে আইন সভা দ্বারা পাe শকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোঃ ১.শরীয়া আইন,১৯৩৭,২.মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৭,৩.মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১( অধ্যাদেশ নং ৮), ৪.মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদ রেজিষ্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪ এবং দেশের উচ্চ আদালতের কোন জটিল বিষয়ের সিদ্ধান্তও মুসলিম আইনের উত্‍স হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।)

মুসলিম উত্তরাধিকার কী:
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মৃতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর, তার দেনাশোধ বা তিনি যদি কোনো উইল সম্পাদন করেন তা হস্তান্তরের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে সে সম্পত্তির ওপর তার সন্তানাদি ও আত্মীয় স্বজনের যে অধিকার তাই উত্তরাধিকার। এর মানে, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কোন মুসলমান মারা গেলে তার ফেলে যাওয়া সম্পত্তি বা ত্যাজ্য সম্পত্তি কিভাবে কাদের মধ্যে বন্টন করা হবে সে সম্পকির্ত বিধানকে মুসলিম উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ বলে। একজন ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলেই উত্তরাধিকার কাযকর হয়।

বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন নিয়মে উত্তরাধিকার বণ্টন করা হয়। মুসলিম আইনে সাধারণ তিন শ্রেণির উত্তরাধিকার আছে-
১) অংশীদার, ২) অবশিষ্টাংশ ভোগী ও
৩) দূরবর্তী আত্মীয়স্বজন।

১) মুসলিম উত্তরাধিকার অনুযায়ী যাদের অংশ পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা আছে তারাই অংশীদার।

২) এরপর কোরআনে মৃতের সাথে যাদের রক্তের সম্পর্ক আছে, তারাই অবশিষ্টাংশ ভোগী।

৩)‍ আবার যাদের সাথে মৃতের রক্তের সম্পর্ক আছে কিন্তু তারা মৃতের অংশীদারও না আবার অবশিষ্টাংশভোগীও নয়। এরাই মৃত ব্যক্তির দূরবর্তী আত্মীস্বজন। দূরবর্তীরা তখনই অংশ পাবে যখন তার কোনো ‍অংশীদারও থাকেনা আবার অবশিষ্টাংশভোগীও থাকেনা।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সাধারণ নিয়মে যারা বাদ যাবে: যদি কোন অংশীদার মৃত ব্যক্তির সাথে অন্যের মাধ্যমে সম্পর্কিত হয় তবে ঐ ব্যক্তির জীবদ্দশায় সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির অংশ পাবেনা। উত্তরাধীকার আইনের সাধারণ নিয়মে বাদ যাবে।

— রক্তের নিকটতম সম্পর্কের ক্ষেত্রে- রক্তের নিকটতম আত্মীয় দূরবর্তী আত্মীয়কে বহির্ভূত করে। এই নিয়মে কোন ব্যক্তি তার পিতা এবং পিতামহ রেখে মারা গেলে পিতামহ পিতার দ্বারা বহির্ভূত হন অর্থাৎ উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির কোন অংশ পাননা।

— মৃত্যুকালে যার দ্বারা সম্পর্কযুক্ত, তিনি বেঁচে থাকলে পরবর্তী সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তি সম্পত্তি পাবে না। যেমন- ভাই বেঁচে থাকলে, ভাইয়ের পুত্র সম্পত্তি পাবে না।

— মৃতের পিতা, পুত্র বা পৌত্র (পুত্রের পুত্র) থাকলে বোন সম্পত্তি পাবে না।

— মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, পৌত্র (পুত্রের পুত্র) অথবা দাদা বর্তমান থাকলে বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই-বোন কোন সম্পত্তি পাবে না।

— মৃত ব্যক্তির পিতা বা দাদা বর্তমান থাকলে সহোদর বোন বঞ্চিত হবে।

— মৃত ব্যক্তির পুত্র বা একাধিক কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা সম্পূর্ণরূপে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

— মৃত ব্যক্তির পুত্র বা একাধিক কন্যা বা নিকটতম পুত্রের পুত্র বা নিকটতম পুত্রের পুত্র বা নিকটতম পুত্রের একাধিক কন্যা থাকলে দুরবর্তী পুত্রের কন্যা উত্তরাধিকার হতে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হয়।

— মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের সন্তান যত নীচের হোক, পিতা অথবা পিতার পিতা অর্থাৎ দাদা, একাধিক আপন ভাই এর উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় বোন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

— মৃত ব্যক্তির পুত্র, কন্যা, পৌত্র (পুত্রের পুত্র), পৌত্রী (পুত্রের কন্যা), পিতা বা পিতার পিতা ইত্যাদি কেউ জীবিত থাকলে বৈপিত্রেয় ভাই/বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে।

মুসলিম আইনে কিছু ক্ষেত্র বিশেষ কারণে একজন ব্যক্তি উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হয়ে থাকেন-

নরহত্যাজনিত অপরাধ- যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা ভুলক্রমে অথবা দুর্ঘটনাক্র্মে অথবা অবহেলায় যদি কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় তবে হত্যাকারি উক্ত হত্যাকৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। এটি সুন্নি আইনের মতবাদ।

তবে শিয়া আইন অনুযায়ী হত্যাকান্ড যদি দুর্ঘটনাক্রমে বা ভুলক্রমে অনিচ্ছাকৃতভাবে হয় তাহলে হত্যাকারি সেই জন্য ঐ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।(রামসে রচিত আল্ সিরাজিয়া,১৪; বেঈলী,২৬৬, ৩৬৯)। তবে হত্যা সংঘটনে প্ররোচনাকারী শিয়া সুন্নি সব মতবাদ অনুসারেই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।

— ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারী বা পরিত্যাগ করলে স্বাভাবিক নিয়মে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে একজন ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু স্বধর্ম ত্যাগ না করে ভিন্ন ধর্মের কাউকে বিয়ে করলে উত্তরাধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।

— স্বামী কর্তৃক পরিত্যক্ত স্ত্রী অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হন না।

বিবিধ–
সৎ-সন্তানদিঃ সৎ-সন্তানদিগণ সৎ-পিতামাতার নিকট হতে উত্তরাধিকারের অংশ গ্রহন করতে পারে না অথবা সৎ-পিতামাতাগণ সৎ-সন্তানদির নিকট হতেও সম্পত্তির অংশ গ্রহন করতে পারে না। (ম্যাকনাতেন পৃঃ নম্বর ৯৯, মিরাসের দৃষ্টান্ত নম্বর ২১ দ্রষ্টব্য)

দত্তক সন্তান: মুসলিম আইনে দত্তক গ্রহণ করার কোনো বিধান নেই মুসলিম আইনে জন্মসূত্রে সন্তান সম্পত্তির অধিকারী, তা অন্যভাবে খর্ব করা যায় না। তবে দত্তক নেয়া অপরাধ বা গোনাহ নয়, সেক্ষেত্রে দত্তক ভিন্ন অর্থে হবে। দত্তকের ভিন্নার্থ ইসলামে নিষিদ্ধ নয়, যদিও কোনো এতিম বা গৃহহীন অথবা পরিত্যক্ত শিশুকে তার মঙ্গলের জন্য নিজের সন্তানের মতো অন্ন-বস্ত্র-আশ্রয় ইত্যাদি দিয়ে পালন করা হয়। নিঃসন্তান দম্পতি কোনো শিশুকে তার নিজ সন্তানের ন্যায় স্নেহ দিয়ে লালন-পালন করে এবং ঐ দত্তককে তার জীবিতাবস্থায় যেকোনো কিছু ইচ্ছা দান করে যেতে পারেন, তবে তার মৃত্যুর পর ওই দত্তক উত্তরাধিকারী হিসাবে কোনো সম্পত্তি পাবে না। মূলত মুসলিম আইনে এভাবে পালিত সন্তানের কোনো আইনগত অধিকার নেই।

অবৈধ বা জারজ সন্তানদিঃ শিয়া আইন অনুসারে অবৈধ বা জারজ সন্তান তার মাতা বা মাতার আত্মীয়-স্বজন উভয়ের নিকট হতে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

কিন্তু সুন্নি ল’ অনুসারে অবৈধ বা জারজ সন্তান কেবল তার মাতার সন্তানই বলা হয় এবং তাই সে তার মা ও মায়ের আত্মীয়-স্বজনদের নিকট হতে সম্পত্তির অংশ উত্তরাধিকারী হিসাবে পাবে, কিন্তু পিতার সম্পত্তিতে পাবে না। একইভাবে জারজ সন্তানের উত্তরধিকার ও মাতৃসম্পর্ক ধরে বন্টিত হবে, পিতার নয়। কিন্তু বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, জারজ সন্তান একই মায়ের বৈধ পুত্রের নিকট হতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারে না। (রহমতউল্লা বনাম মাকসুদ আহমদ (৫২) এ. এ. ৬৪০)

বেওয়ারিশ সম্পত্তিঃ মৃত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকার না থাকলে এবং তা তিনি জীবিতকালে কাউকে না দেয়ার ব্যবস্থা করে গেলে সরকার তার সম্পত্তির ওয়ারিশ হবে।

নিখোঁজ ব্যক্তিগণঃ যখন প্রশ্ন উঠে কোনো ব্যক্তি জীবিত না মৃত এবং প্রমাণ হয় যে, সে ব্যক্তি জীবিত থাকলে সাধারণত যারা তার সংবাদ জানে বা রাখে গত সাত বৎসর যাবৎ ঐ ব্যক্তির কোনো খোজঁ বা অনুসন্ধান পায় নাই, তখন সে ব্যক্তি জীবিত আছে এই মর্মে কেউ দাবি করলে ইহা প্রমাণের দায়িত্বভার তার উপর ন্যস্ত হবে।

হানাফী আইনানুযায়ী একজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে তার জন্মের পর হতে নব্বই বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জীবিত বলে গণ্য করতে হবে। কিন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টের পূর্ণ বেঞ্চের রায়ে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই বিধানটি কেবল সাক্ষ্যগত একটা বিধান মাত্র, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান নয় এবং এটাকে অবশ্যই সাক্ষ্য আইনের ব্যবস্থাবলী দ্বারা অতিক্রান্ত ব্যবস্থা হিসাবে গণ্য করতে হবে। [ মাজহার আলী বনাম আব্দুল ওয়াহিদ (১৯২১) ৪৩ এলা. ৬৭৩; ৬৩ আই. সি. ২৮৬,(২১) এ. এ. ১৭৫। মোল্লা আব্দুল (১৯০৫) ৩৩ ক্যাল. ১৭৩,১৭৮; ৩২ আই. এ. ১৭৭; আজিজুল হাসান বনাম ফারুক (১৯৩৪) ৯ লক্ষৌ ৪০১; ১৪৭, অাই. সি. ৯৭৩ (৩৪) এ. ও. ৪১।]

ত্যাজ্য সন্তানঃ অনেকেই ভাবেন পিতার সম্পত্তি সন্তানকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করা যায় অর্থাৎ ত্যাজ্য করলে সন্তান সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু বিষয়টি ঠিক নয় কেউ চাইলে কাউকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করতে পারবেনা। মুসলিম আইন অনুযায়ী, জন্মসূত্রেই কোনো সন্তান তার পিতার বা পরিবারের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার অর্জন করে এবং তাদের এই অধিকার কোনোভাবেই খর্বযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নানাভাবেই সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। যেমন দান, উইল, বিক্রয় ইত্যাদি। দান বা বিক্রয়ের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হলে তাতে আর ওই ব্যক্তির কোনো মালিকানা থাকে না এবং কোনো উত্তরাধিকারী দাবী করা যায় না। উইলের মাধ্যমে যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়, সেই সম্পত্তিতে উইলকারী ব্যক্তির জীবনস্বত্ব অটুট থাকে। তার মৃত্যুর পর সেই উইল কার্যকর হয়। তবে উইলের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না। সুতরাং জীবদ্দশায় যেসব সম্পত্তি দান বা বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়নি কিংবা অবশিষ্ট সম্পত্তির যে অংশ অসিয়ত করা হয়নি, সেই বাকি সম্পত্তিতে ওই ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের মালিকানা সৃষ্টি হয় এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী তাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হবে।

তবে কেউ যদি রেজিস্ট্রিকৃতভাবে পুরো সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করে যায় এবং সন্তানকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে তার কোনো অংশের কথা উল্লেখ না করে যায়, তবে ওই সম্পত্তিতে তার সন্তানদের কোনো অংশ থাকবে না। অনেকে দলিল সম্পাদন কিংবা হলফনামার মাধ্যমে ত্যাজ্য করার ঘোষণা দেন। কিন্তু যেভাবেই করা হোক, এ ধরনের ইচ্ছা বা আদেশ যা তার মৃত্যুর পর বা জীবদ্দশায় কার্যকর হবে, এর কোনো মূল্য নেই। কেননা, মুসলিম আইনে এ ধরনের দলিল বা হলফনামা সম্পাদনের কোনো ধারাই রাখা হয়নি। মুসলিম আইনানুসারে, কাউকে ত্যাজ্য সন্তান করা বা মৃত্যুর সময় অসিয়তের মাধ্যমে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হারাম এবং অবৈধ। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই যাকে ত্যাজ্য সন্তান ঘোষণা করা হয় কিংবা যাকে তার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অসিয়ত করা হয় সে কোনোভাবেই তার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং সে তার নির্ধারিত অংশ পাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে তার উত্তরাধিকারীকে উত্তরাধিকার (মিরাস) থেকে বঞ্চিত করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তার জান্নাতের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন। (ইবনে মাজাহ)।

মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে কোন ধরনের ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হয়ে থাকেন তা উপরোক্ত সাধারণ বা বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্র মনে রাখলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের জটিলতা দূর হবে।

লেখক:  সোয়েব রহমান, আইনজীবী|