কোন কাজ করার পর কখনো কি মনে হয়েছে যে তুমি কাজটা আরো ভাল করে করতে পারতে? কিংবা আরো ভাল করে করা উচিত ছিল? নিজের অজান্তে হয়ত অনেক সময়ই এই ভাবনাটা মাথায় ঘুরপাক খেতে পারে; নিজের ইমপ্রুভমেন্ট দরকার। হয়ত তুমি যে কাজটি কোনরকমভাবে সম্পন্ন করছ, সেটা নিজের প্রচেষ্টায় একটু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করলে নিজের আত্মতৃপ্তিটা অনেকগুণ বেড়ে যেত।

 শুধু কাজের ক্ষেত্রে নয়, নিজের জীবনটার কথাই ধর। তোমার নিজের এমন উপলব্ধির প্রয়োজন যেখানে তুমি সর্বদা তোমার নিজের উন্নয়নের দিকে একধাপ করে এগিয়ে যেতে পারবে। এমনটা ভাবা খুবই সহজ তবে, বাস্তবে প্রয়োগ করাটা কিছুটা হলেও সংকটপূর্ণ।

 সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্টের ভাবনাটা মাথায় আসলেও কার্যকর ধাপ নিয়ে বাস্তবায়ন করার জন্য নিজেকে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া। তুমি যতটা নিজের প্রতি ইনভেস্ট করতে পারবে, ততটাই তোমার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

১. তোমার চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তুমি নিজে
এটা তোমার জীবন, নিজের জীবনকে যদি একটি বৃত্ত হিসেবে চিন্তা করে নাও তবে নিজের অবস্থানটা যেন কেন্দ্রবিন্দুতে হয় সেটা নিশ্চিত করে নিতে হবে। তবে এটা বলতে এই নয় যে, নিজেকে স্বার্থপর করে তোলা।

 নিজেকে তোমার চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে, যেন নিজের গুরুত্বটা নিজে বুঝে নিতে পারো। নিজের সিধান্তগুলো নিজে নেয়া, নিজের ভাল-মন্দ বোঝা, নিজের ভুলগুলো থেকে শেখা, এগুলো তোমাকে নিজের বিচার বুদ্ধিতে বিশ্লেষণ করা শিখতে হবে।

২. ভুলগুলোকে খুঁজে বের করো
কোন অঙ্ক করতে গেলে এমন হয় যেখানে তোমার হয়ত কোন ভুলের জন্য সম্পূর্ণ অঙ্কটাই ভুল হয়ে যায়। জীবনটাও অনেকটা এরকম। তোমাকে তোমার নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করতে হবে নিজেই। সেগুলো যেন আবার না হয়, সেদিকে তোমার খেয়াল রাখতে হবে। ভুলগুলো থেকেই তোমার শিখতে হবে।

এবার অঙ্কের কথাটাই না হয় ধরো, তুমি যদি নিজেই জানো যে তোমার এই ভুলের জন্য অঙ্কটা বার বার ভুল হচ্ছে, তাহলে তোমার জন্য অঙ্কটা সহজ হয়ে যাবে, তাই না? পরের বার তুমি যখন করতে যাবে, তখন নিজেই সতর্ক থাকবে যেন একই ভুল দ্বিতীয় বার না হয়। একই ভাবে এটা তোমার জীবনে প্রয়োগ করা শিখতে হবে।

৩. অনুপ্রেরণা খুঁজে বের করো
তোমাকে বুঝতে হবে তুমি কিভাবে নিজেকে অনবরত অনুপ্রানিত করতে পারো। অনুপ্রেরনাটা নিজেকে খুঁজে নিতে হবে, কেননা যা তোমার বন্ধুকে অনুপ্রাণিত করছে, হয়ত তাতে তুমি অনুপ্রাণিত নাও হতে পারো। অনুপ্রেরণাটা তুমি যেন ধরে রাখতে পারো, তার উপায়টা বের করো।

 একেকজন একেকভাবে অনুপ্রাণিত হয়, হতে পারে তা কারো জন্য বিখ্যাত উক্তিসমূহ, কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী, অথবা নিজ জীবন থেকে প্রাপ্ত ভুল থেকে শেখা শিক্ষাগুলো। তোমাকে কোন বিখ্যাত উক্তিতে যে অনুপ্রাণিত হতে হবে, তাও নয়। সেটা হতে পারে তোমার প্রিয় লেখক, গায়ক, ক্রিকেটার বা যে কেও, যার জীবনের ভুলগুলো বা প্রাপ্তিগুলো থেকে তুমি নিজেকে অনুপ্রাণিত করে তুলতে পারবে।

৪. তোমার দুর্বলতাটাকে জানো
আমরা যে কাজটা বেশ ভাল পারি, আমরা চেষ্টা করি তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে। কিন্তু তুমি যে কাজে পারদর্শী নয়, সে কাজগুলোতে কিন্তু তুমি দুর্বল রয়ে যাবে। তুমি যদি অল্প করে হলেও কাজগুলো তোমার আয়ত্তে আনার চেষ্টা করো, তবে তোমার মাঝে সে গুণগুলো ধীরে ধীরে ফুটে উঠবে।

নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে নিজেই যদি অবগত হতে পারো; তবে তার প্রতি নিজেই পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা তোমার পক্ষে সহজ হবে।

“ভেবে বসবে না যে আমাকে দিয়ে হবে না”

৫. আত্মনির্ভরশীল হতে শেখো
দিন শেষে, তুমি কেবল নিজের উপরই নির্ভর করতে পারবে। নিজের অবস্থানটা এমনভাবে তোমাকে গড়ে তুলতে হবে যেন তোমাকে অন্যের উপর নির্ভর করতে না হয়। আত্মনির্ভরশীলতা যখন তুমি রপ্ত করতে পারবে তখন অধিকাংশ কাজ তোমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিজেকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

৬. লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না
তোমার জীবনের লক্ষ্যগুলো যেন জীবনের সংগ্রাম স্রোতে হারিয়ে না যায়। যত বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হও না কেন, তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কখনো আশার হাল ছেড়ে দিবে না, ভেবে বসবে না যে আমাকে দিয়ে হবে না। যতবার তুমি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছ বলে মনে হবে, তত তোমাকে আরও দৃঢ়চিত্ত হতে হবে যেন তুমি হেরে না যাও।

৭. নিজের অগ্রাধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখো
তুমি সবকিছুকে অগ্রাধিকার দিতে পারো না। তোমার জীবনটা তখনই সুষ্ঠুভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, যখন তুমি তোমার অগ্রাধিকারগুলোকে সাজিয়ে নিতে শিখবে।

 এগুলোর সম্মেলনের মাধ্যমেই তুমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্টটা একদিনে তো আর সম্ভব নয়। তোমাকে দৃঢ়চিত্ত এবং সংকল্পবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ধাপে ধাপে তুমি যে কতটা দূর এগিয়ে যেতে পারবে তা পিছনে ফিরে নিজের অবস্থানটা তুলনা করলে সহজেই বুঝতে পারবে। তবে থেমে থেকো না, এক ধাপ করে হলেও এগিয়ে যাও।