ছেলেরা পুলিশ অফিসার, এর পরও উন্নত চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন বরিশালের বাবুগঞ্জের মোছা. মনোয়ারা বেগম (৭০)। এর আগে খাবারের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু এখন তাও পারছেন না। কারণ বয়সের ভারে স্বাভাবিক অবস্থায় হাঁটতে পারছেন না। জানা গেছে, এই হতভাগ্য বৃদ্ধার ৫ ছেলের মধ্যে তিনজন পুলিশে চাকরি করেন। তার একমাত্র মেয়ে সেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। কিন্তু কেউ তার খোঁজ-খবর রাখছেন তারা।

 জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের আয়ুব আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় মনোয়ারা বেগমের। অভাব-অনটনের সংসার হলেও ৬ সন্তান নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তাদের। কিন্তু ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর আয়ুব আলী মারা গেলে মনোয়ারার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। এর পরও তিনি ৬ সন্তানকে সাধ্যমতো শিক্ষিত করেছেন।

 বর্তমানে তার ৫ ছেলের মধ্যে তিনজন পুলিশে চাকরি করছেন। আর এক মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। অথচ ক’দিন আগেও খাবারের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে হয়েছিল এই হতভাগ্য মাকে।
এ ব্যাপারে মনোয়ারার এক ছেলে ইজিবাইক চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি সামান্য আয়ের মানুষ। কোনোরকমে বেঁচে আছি। তারপরও আমার সাধ্যমতো মাকে চিকিৎসা দেবার চেষ্টা করছি। কিন্তু মায়ের দরকার ভালো মানের চিকিৎসা। আমার তিন ভাই পুলিশ অফিসার। তারা তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র থাকেন। কিন্তু মায়ের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না।

 তবে বড় ছেলে পুলিশের এসআই ফারুখ হোসেন বলেন, আমার মাকে আমরা অনেকবার চিকিৎসা করিয়েছি। তার কাগজপত্র আমার কাছে আছে। বর্তমানে মা বেশি অসুস্থ। তাকে উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া দরকার। কিন্তু আমরা দুই ভাই মিলে মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বাধা দেয় এবং আমাদের ফিরে আসতে বাধ্য করে।