ঝালকাঠিতে গতকাল বুধবার রাতে কালীমন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের দায়ী করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের সঙ্গে কর্তৃপক্ষই জড়িত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লিখিত অভিযোগ করেন চাল ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম হাওলাদার ও দুলাল চন্দ্র দেবনাথ।

ওই দুজন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিমা নিজেরা ভাঙচুর করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চাল ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করা হচ্ছে। তাঁরা আরো অভিযোগ করেন, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার নাথ ভানুর নেতৃত্বে মন্দিরসংলগ্ন চালের দোকানে হামলা ও লুটপাট করা হয়। সে সময় দোকান থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা লুট এবং মালামাল নষ্ট করে তারা। হামলা, সংঘর্ষে চারজন চাল ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে পূজার অনুষ্ঠান চলাকালে শহরের একটি কালীমন্দিরে হামলা চালান স্থানীয় কিছু চাল ব্যবসায়ী। এ সময় ভাঙচুর করা হয় দেবতা কার্তিকের প্রতিমা। পরে হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে আটজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মন্দির কমিটির সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন চাল ব্যবসায়ীর বিরোধ চলছিল। চাল ব্যবসায়ীরা মন্দিরের জায়গায় ব্যবসা করছিলেন। মন্দির সম্প্রসারণের জন্য কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সরে যাননি।

গতকাল পূজার অনুষ্ঠানে প্রসাদ বিতরণকালে চাল ব্যবসায়ী হাকিম তালুকদার, দুলাল দেবনাথ, গোপাল দেবনাথ ও সমীর দেবনাথের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে মন্দিরের কার্তিক প্রতিমা ভাঙচুর করে।

এদিকে, আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশালের ভারপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আকরাম হোসেন, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজানুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার জোবায়েদুর রহমান প্রমুখ। সেখানে তাঁরা মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন ডিআইজি আকরাম হোসেন।