বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত আইনজীবী হিসেবে সনদ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৪০ বছর বয়স নির্ধারণ করার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আজ বুধবার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবেন। বিচার বিভাগ থেকে অবসর নিয়ে নিম্ন আদালতে আইন পেশায় অনুশীলনের সুযোগ আর থাকবে না। নিম্ন আদালতের বিচারকরা ইচ্ছে করলে শুধু হাইকোর্টে প্রাকটিস করতে পারবেন। হাইকোর্ট থেকে যাঁরা অবসর নেবেন তাঁরা শুধু আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। আর আপিল বিভাগ থেকে অবসরের পর তাঁদের প্র্যাকটিসের কোনো সুযোগ নাই।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপিল বিভাগ বলেছেন দুই বছরের কোর্স তাঁরা অনুমোদন করবেন না। তিন বছর অথবা চার বছর মেয়াদি কোর্সধারী হতে হবে। আমি বলেছিলাম আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ৩৫ বছর করতে। তবে এখন পর্যন্ত আলাপ-আলোচনায় বুঝা গেছে উনারা ৪০-এর পক্ষে।’

দারুল এহসানের পক্ষের আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন ৪০ বছরের পর আইনজীবী হওয়া যাবে না। তা ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছর মেয়াদি এলএলবি সনদধারীরা বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। আর জেলা জজ পর্যায় থেকে যাঁরা অবসর নিয়েছেন তাঁরা হাইকোর্ট বিভাগের নিচে অন্য কোনো আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

গত বছরের ২৫ জুলাই দারুল ইহসানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০০৬ সালের পর দারুল ইহসানের সব সার্টিফিকেট বাতিল বলে গণ্য হবে। পরের দিন ২৬ জুলাই দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিপূরণ চাইলে সরকার সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবে।

সে সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসসহ সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।