শারমিন তিন কন্যার জননী। এবারও গর্ভবতী। স্বামীর স্বপ্ন একটি পুত্র সন্তান। সে আশায় বুক বেঁধে আছে। কিন্তু বিধিবাম! অন্তঃসত্ত্বার আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে কন্যাসন্তান হওয়ার কথা জানিয়েছেন সনোলজিষ্ট। সেই থেকে শারমিনের জীবনে নেমে আসে এক অমানিষার আঁধার। শশুর-শাশুড়ীর আদেশ কন্যা সন্তানের ভ্রুণ নষ্ট করতে হবে। মমতাময়ী মা গর্ভে ধারণকৃত ভ্রুণ কিছুতেই নষ্ট করতে রাজি নন। অবশেষে পাষন্ড স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে শারমিনের মৃত্যু ঘটে।

সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কিছু চিকিৎসকের অনৈতিক আচরণের কারণে দেশে অহরহ ঘটছে এমন পৈশাচিক ঘটনা। ধর্মীয় টানাপড়েন এবং লজ্জাবোধের কারণে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নারীরা এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারছেন না। অথচ যদি চিকিৎসকরা নৈতিকভাবে দৃঢ় থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে কন্যাসন্তান হওয়ার বিষয়টি রোগীর অভিভাবকের কাছে প্রকাশ না করতেন তাহলে হাজার হাজার কন্যাশিশুর ভ্রূণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। চীন, জাপানসহ উন্নত বিশ্বের বেশকিছু দেশে জন্মের আগে গর্ভস্থ শিশুটি মেয়ে না ছেলে এ তথ্য প্রকাশে সনোলজিস্টদের প্রতি বিশেষ বিধিনিষেধ থাকলেও বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। বরং কত কম সময়ের মধ্যে শিশুটির লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যায়, এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আমাদের সনোলজিস্টরা। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সবাই পুত্রশিশুর আশায় কন্যাশিশুর ভ্রূণ নষ্ট করে ফেলছে। ভারতে আইন করে বিষয়টি নিষেধ করা হয়েছে। আমাদের দেশে এ ব্যাপারে কোনো আইন নেই। এমনকি কে কোথায় কীভাবে এসব কাজ করছে সে ব্যাপারেও কোনো মনিটরিং ও সার্ভে নেই। ‘যেহেতু আমাদের দেশে গর্ভপাত ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ, সেহেতু এখানে বিষয়টি সেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না। কিন্তু মেটারনিটি ক্লিনিকগুলোয় হরহামেশাই গর্ভপাতের ঘটনা ঘটছে এবং গর্ভপাতের ফলে অনেক মায়েরও মৃত্যু হচ্ছে।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩১২ থেকে ৩১৬ ধারা পর্যন্ত গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন ও সাজার কথা বলা হয়েছে। ৩১২ ধারায় বলা হয়েছে কোন নারী গর্ভপাত ঘটালে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিন বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাাস্তি পেতে পারে।

৩১৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীলোকটির সন্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটায়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাবাস, জরিমানা বা দশ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।

৩১৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীলোকটির সন্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটাইবার উদ্দেশ্যেজনিত কার্যে মৃত্যু ঘটায়, তাহলে ওই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাবাস বা উপযুক্ত দন্ডে দন্ডিত হবে।

৩১৫ ধারায় বলা হয়েছে, শিশু যাহাতে জীবন্ত জন্মিতে না পারে, বা উহা যাতে জন্মের পর পর মারা যায় সেই উদ্দেশ্যে কোন কার্য করিলে উক্ত ব্যক্তি দশ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তি পেতে পারে।

৩১৬ ধারায় বলা হয়েছে, এমন কোনো কার্য দ্বারা আসন্ন প্রসব গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু ঘটানো, যাহা অপরাধজনক প্রাণনাশ বলিয়া গণ্য হয়, এমন কোনো কার্য করিলে উক্ত ব্যক্তি দশ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা দন্ডে দন্ডিত হবে।

বাংলাদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা খুব কম। ফলে গুরুতর অবহেলাজনিত অপরাধের পরও ডাক্তাররা খুব সহজেই পার পেয়ে যায়। কখন একজন ডাক্তার অবহেলাজনিত কারণে অভিযুক্ত হতে পারে তা জানতে হলে অবহেলা সম্পর্কে জানা দরকার। তিনটি কারণে অবহেলার দায়ে কাউকে অভিযুক্ত করা যায়।

কোনো ব্যক্তির যখন অন্য ব্যক্তির প্রতি যথাযথ মনোযোগ ও যত্ন নেয়ার দায়িত্ব থাকে।
যখন ওই ব্যক্তি এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। এবং
তার দায়িত্ব পালন না করার কারণে ব্যক্তিটি চরম ক্ষতির শিকার হয় বা মারা যায়।
এ তিনটি কারণ উপস্থিত থাকলে একজন ডাক্তারকে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়। কারণ ডাক্তারের দায়িত্ব রয়েছে রোগীর প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। ডাক্তার যদি এ দায়িত্ব পালন না করেন এবং এর ফলে রোগী যদি চরম ক্ষতির শিকার হয় তাহলে ডাক্তার অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সব রোগীর চিকিৎসা করতে ডাক্তার বাধ্য নন। সে ক্ষেত্রে ওই রোগীর প্রতি তার কোনো দায়িত্ব থাকবে না। কিন্তু যে ক্ষেত্রে ডাক্তার কাউকে রোগী হিসেবে গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের ওপর যথাযথ দক্ষতা ও জ্ঞানের সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা করার দায়িত্ব থাকবে। কোনো ডাক্তার এ দায়িত্ব পালনকালে রোগীর কোনো ক্ষতি হলে রোগী ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তবে ডাক্তারের যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্য না-ও থাকে তারপরও দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা যায়। তবে অবহেলার কারণে রোগীর কোনো ক্ষতি না হলে শুধু অবহেলার অভিযোগে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। বাংলাদেশে ডাক্তারের অবহেলাজনিত ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার আইনি সুযোগগুলো এ রকম-

১৮৬০ সালের দন্ডবিধি ও ৩০৪ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির অবহেলাজনিত কারণে যদি কারো মৃত্যু ঘটে তবে ওই ব্যক্তিকে ৫ বছরের কারাদন্ড বা জরিমানা অথবা দুটোই একসঙ্গে শাস্তি হিসেবে দেয়া যাবে। এ ধারা শুধু অবহেলার কারণে মৃত্যু হলে কার্যকর হবে। কিন্তু এ ধারাটিতে ডাক্তারের জন্য কোনো আলাদা আইন রাখা হয়নি। যে কারো যে কোনো অবহেলার ক্ষেত্রে এ ধারা কার্যকর। এ কারণে এটা ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

দন্ডবিধির আওতায় মামলা করতে চাইলে তা ফৌজদারি আদালতে করতে হবে তবে টর্ট আইনের আওতায় দেওয়ানি আদালতেও মামলা করা যায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করা যাবে। একই সঙ্গে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যাবে না। ফৌজদারি বা দেওয়ানি যে আদালতেই মামলা করা হোক না কেন অবহেলাজনিত মামলা প্রমাণ করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব জটিল হয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে অবহেলা প্রমাণ করা অত্যন্ত সহজ। কারণ ঘটনার ফলাফলই প্রমাণ করে যে অবহেলা হয়েছে। যেমন: কিডনির বদলে ইউটেরাল কেটে ফেলা, অপারেশনের সময় এক যন্ত্র রেখে অন্য যন্ত্র দিয়ে অপারেশন করা, নষ্ট দাঁতের বদলে ভালো দাঁত তুলে ফেলা, এক রোগের জন্য অন্য রোগের ওষুধ দেয়া ইত্যাদি।

ভারতে ডাক্তারের অবহেলার ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে প্রচুর মামলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কোর্ট উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির উপকারও করেছেন। তবে ভারতে ডাক্তারের অবহেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আরেকটি বিকল্প ও কার্যকরী আইন তৈরি হয়েছে।

১৯৮৬ সালের কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট নামে এ আইনের আওতায় ডাক্তারের অবহেলার ফলে কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হলে কনজিউমার কোর্টে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে। এ কোর্টে কোনো কোর্ট ফি লাগে না। এবং খুব দ্রত বিচার করে থাকে। ফলে দরিদ্র রোগীরাও এখানে বিচারের জন্য আসতে পারে। আমাদের দেশে এ রকম কোনো আইন নেই। বর্তমান আইনে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে এ ধরনের একটি আইনের প্রয়োজন উপেক্ষা করা যায় না। তবে আপাতত জনস্বার্থে মামলার মাধ্যমে সরাসরি হাইকোর্টে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করা যায়। একই সঙ্গে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতে যেটুকু আইনগত সুবিধা রয়েছে তার সর্বোচ্চ সুযোগ নেয়া উচিত।

আইনের অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও আমরা যতোটুকু পারি তার সদ্ব্যবহার করতে পারি।

বালাদেশে চিকিৎসা-সংক্রান্ত মামলা তেমন একটা হয় না বললেই চলে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সুষ্পষ্ট আইনের অভাব। এরপরও অপ্রতুল আইনি ব্যবস্থায় যা আছে, তাতে ডাক্তারি অবহেলা একই সঙ্গে দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা যায়। টর্ট আইনে অবহেলা বলতে বোঝানো হয়েছে, কারও প্রতি যতœ নেওয়ার আইনগত দায়িত্ব পালনে অপরের ব্যর্থতা। টর্ট আইনে বা দেওয়ানি মামলায় ডাক্তারি অবহেলার বিরুদ্ধে হয়রানি, মানহানি, মিথ্যা প্রলোভন সহ ক্ষতিপূরণের মামলা করা যাবে। কিন্তু আমাদের দেশে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে বেশ জটিলতা দেখা যায় এবং এর পরিচালনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়, যা দরিদ্র লোকের পক্ষে জোগাড় করা দুরূহ। এছাড়া সাক্ষ্য গ্রহণেও দেখা দেয় জটিলতা। এ ধরণের মামলায় মূলত ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষী করতে হয়। ফলে ঘটনার ব্যাপারে সত্যতা উদঘাটন অসম্ভব হয়ে যায় এবং প্রতিকার সম্ভব হয় না। চিকিৎসায় অবহেলায় ফৌজদারী মামলা করা যায়। দ-বিধি ৩০৪(ক) ধারায় উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তির হটকারিতা বা অবহেলার কারণে যদি মৃৃত্যু হয় তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- বা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। এ অপরাধের ক্ষেত্রে হটকারিতা, অসতর্কতা, অবহেলা বা বেপরোয়া কাজ প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। রশিদুল্লাহ বনাম রাষ্ট্র (২১) ডিএলআর (৭০৯) মামলায় বলা হয়েছে, বেপরোয়া বা হটকারি কাজ মানে হচ্ছে কোনো বিপজ্জনক কাজের ঝুঁকি নেওয়া এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজটি সম্পাদন করা। ডাক্তারি অবহেলাও দ-বিধির এ ধারায় অন্তর্ভূক্ত হবে।

এছাড়া ৩২৩ থেকে ৩২৬ ধারায় অন্তভূর্ক্ত অবহেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির আওতায় ডাক্তারি অবহেলা সংক্রান্ত অপরাধের প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া দ-বিধির ৩৩৬ ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া কাজ বা অবহেলার কারণে প্রাণনাশ বা নিরাপত্তা বিঘিœত হলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদ- ও সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ আছে। দ-বিধির ৩৩৭ ধারাতেও অবহেলাজনিত কারণে আঘাত দিলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ- এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত শাস্তির বিধান আছে। তবে ৩৩৮ ধারাটি ডাক্তারি অবহেলা-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিকারের ক্ষেত্রে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ধারায় উল্লেখ আছে, যেকোনো ধরণের বেপরোয়া কাজ বা অবহেলার কারণে আঘাত দিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা দুটি একসঙ্গে দেওয়া যাবে। এছাড়া বাংলাদেশে দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস্ অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেজিষ্ট্রেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ নামে একটি আইন আছে। যাতে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে এবং প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন ও পরিচালনায় সুষ্পষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী কোনো সরকারী চাকুরিতে নিযুক্ত আছেন, এমন কোনো রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক অফিস চলাকালীন কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা নার্সিং হোমে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং করলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু দেশের যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠেছে এবং এর জন্য যথাযথ লাইসেন্স গ্রহণ করা হচ্ছে না। এসব ক্লিনিকে সংঘটিত অপরাধেরও বিচার হচ্ছে না। অপারেশনের ফিসসহ বিভিন্ন কারণে ভর্তি হওয়া রোগীদের কাছ থেকে কী পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হবে, তা এ আইনে উল্লেখ আছে, যা সচরাচর মানা হয় না। যেমন আইনে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে বহুগুণ বেশী আদায় করা হচ্ছে। এ আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের বিধান লংঘন করা হলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, আইন গ্রন্থ প্রণেতা ও সম্পাদক দৈনিক ‘সময়ের দিগন্ত’।