খুন করা সবচেয়ে বড় ফৌজদারী অপরাধ। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী খুনের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ বিধানেরও কিছু ব্যতিক্রম আছে।

দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী যদি কাউকে খুন করা হয় তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

তবে এ ধারাটি তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখনঃ

১) যদি কোন লোক আপনার উপর এমন আঘাত করতে উদ্ধ্যত হয় যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই আপনার এরূপ আশংকার সৃষ্টি হয় যে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে সে আঘাতকে প্রতিহত না করলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য।
২) যদি কোন লোক আপনাকে এমন আঘাত বা আক্রমণ করে যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই এরূপ আশাংকার সৃষ্টি হয় যে, সে আঘাত বা আক্রমণের ফলে আপনার গুরুতর আহত হওয়া অনিবার্য।
৩) আপনি যদি স্ত্রীলোক হন এবং আপনাকে যদি কেউ ধর্ষণ করতে আসে। (অর্থাৎ স্ত্রীলোক তার ইজ্জত রক্ষার্থে ধর্ষণে উদ্ধত লোকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারেন।)
৪) যদি কেউ কোন অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৫) যদি কোন লোক কোন শিশু বা নারীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৬) যদি আপনাকে কেউ বেআইনীভাবে আটক করতে উদ্যত হয় এমন পরিস্থিতিতে আপনার ন্যায়সঙ্গতভাবে আশংকা হয় যে, আপনি আটক হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আপনি আর উদ্ধার হতে পারবেন না, তখন আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যাবে।

এইতো গেল দেহরক্ষার ক্ষেত্রে আপনার খুন করার অধিকার। আর সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে খুন করার অধিকার দেয়া হয়েছে দণ্ডবিধির ১০৩ ধারায় ।

এ ধারায়ও আপনার কষ্টার্জিত সম্পত্তিতে যদি-

১) দস্যুদের দ্বারা লুন্ঠনের উপক্রম হয়,
২) রাত্রিকালে আপনার গৃহে কেউ বেআইনী প্রবেশ করে,
৩) কোন গৃহ, তাঁবু বা যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, যদি সে গৃহ, তাঁবু বা যানবাহন কোন মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে,
৪) যদি কোন লোক চুরি করার উদ্দেশ্যে আপনার গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। চুরি করার সুবিধার জন্য আপনাকে গুরুতর আঘাত করতে উদ্ধত হয় এবং আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ না করলে আপনার মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য, প্রভৃতি ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত ক্ষমতা আইন আপনাকে দিয়েছে।

তবে আইন এও বলেছে (দঃ বিঃ ৯৯ ধারায়) আত্মরক্ষার জন্য যতদুর পর্যন্ত ক্ষতিসাধন করা প্রয়োজন তার বেশী ক্ষতি সাধন করা যাবে না।

সংগ্রহিত