আইন পেশায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় কাটানোর পর ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের সামাজিক পরিচয় আইনের প্রাজ্ঞ বিচারক হিসেবে। তিনি একজন মানবতাবাদী আইনজীবী অভিধায়ও বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত মানুষও তিনি। তবু সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর মানবিক ও সেবা-মনোভাবের অসামান্য গুণটি সামনে চলে আসে। তিনি তাঁর জীবনের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণে। তাঁর কাজ ও ভাবনায় একটি সমৃদ্ধ ও স্নিগ্ধ রুচির ছাপ পাওয়া যায়। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার জমানায় দুই নেত্রীর দুঃসময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান তিনি। অকুতোভয়ে তাঁদের জন্য আইনি লড়াই পরিচালনা করেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় সব প্রভাবশালী নেতার আইনজীবীও ছিলেন তিনি। তবে তাঁদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও পিছপা হননি ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

ওয়ান ইলেভেনখ্যাত প্রবীণ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর, কলকাতায়। গ্রামের নাম সুবর্ণপুর। বাবা মুমিন-উল হক পেশায় ছিলেন চিকিত্সক। মায়ের নাম নূরজাহান বেগম।

রফিক-উল হক ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৫১ সালে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। এরপর আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তত্কালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে যোগ দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ওই বিষয়ে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদকও পেয়েছিলেন। এরপর বার-অ্যাট-ল করতে গিয়েও তিনি ব্রিটেনে সাড়া জাগান। খুব ভালো ফল করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। হিন্দু আইন নিয়ে বার-অ্যাট-ল করেছেন। সেখানেও প্রথম স্থান অধিকার করেন। তারপর তিনি জাতীয়তা পরিবর্তন করেন। পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি এ দেশে আসেন। তবে লন্ডনে পড়াশোনার সময় বেশ কষ্ট করতে হয়েছে বলে জানান ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

কৈশোর-বেড়ে ওঠা

আইনের এই বাতিঘরের বাল্যকাল কেটেছে কলকাতার চেতলায়। পড়াশোনা করেছেন চেতলা স্কুলে। চেতলা স্কুলে রফিক-উল হকের পরিবারের সবাই পড়াশোনা করতেন। স্মৃতিবিজড়িত চেতলা স্কুলের কথা মনে করে তিনি নিজেও যেন সেই স্কুলেই ফিরে যান। সেই স্কুলটিকে ঘিরে অজস্র স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বুকের তোরণে। একবার স্কুলে পিকনিক হবে বলে চাঁদা দিয়েছিলেন তিনি। এটা অবশ্য ১৯৪১ সালের ঘটনা। কিন্তু যেদিন পিকনিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেদিন মারা যান এক কবি। ফলে পিকনিক বন্ধ হয়ে যায়। সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হন। এবং তিনিও। তাঁরা বলতে থাকেন, কোনো এক কবি মারা গেছেন, এতে পিকনিক বন্ধ হয়ে গেল কেন? পরে তিনি জানতে পারলেন, যিনি মারা গেছেন তিনি আর কেউ নন, তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওই ছোট্ট বয়সে তিনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচিত না হলেও এখন তিনি বুঝতে পারেন, কত বড় কবি তিনি। রফিক-উল হক এখনও কলকাতায় যখন সেই বাড়িতে যান, চেতলা স্কুলে একবার ঘুরে আসেন। কী এক মায়াবী টান তাঁকে টেনে নিয়ে যায় ওখানে। এখন সেই স্কুলে বড় বড় ভবন হয়েছে। অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ছেলেবেলায় দেখা সেই ছোট ও সাধারণ স্কুলের ছবিটিই তাঁর মনের ফ্রেমে গেঁথে আছে।

 শিক্ষাজীবন

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের কলেজজীবন কেটেছে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। বঙ্গবন্ধুও পড়েছেন ইসলামিয়া কলেজে। থাকতেন বেকার হোস্টেলে। একসময় ওখানে বঙ্গবন্ধুও ছিলেন। রফিক-উল হক যে রুমটাতে ছিলেন, তার পাশের দুটো রুমেই এখন বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম হয়েছে। পত্রিকায় অবশ্য খবর বেরিয়েছিল, তিনি গিয়েছিলেন সেই মিউজিয়াম উদ্বোধন করতে। ২৬ ও ২৭ নম্বর রুম এখন বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। তিনি পাশের ২৪ নম্বর রুমে থাকতেন। তাঁর ভাইয়েরাও ওখানে থেকেছে। তারপর ইউনিভার্সিটিজীবনে রফিক-উল হক কারমাইকেল হোস্টেলে থেকেছেন। ওখানেও বঙ্গবন্ধু কিছুদিন ছিলেন। একদিনের কথা রফিক-উল হকের খুব মনে পড়ে—তিনি যখন কারমাইকেল হোস্টেলে আছেন, তখন হঠাত্ একদিন বঙ্গবন্ধু হাজির হলেন একজন অ্যাডভোকেটের সঙ্গে। শেখ মুজিব ক্যান্টিন পরিচালক জসিমকে দেখে বললেন, এই জসিম, আমার কাছে বাকি নেই তো? জসিম খাতা নিয়ে এল। বলল, ‘হ্যাঁ সাব, ৩৬ রুপি।’ তখন বঙ্গবন্ধু বললেন, এই, ওকে কিছু টাকা দিয়ে দে। এসব কিছু আজ মনে পড়ে। রফিক-উল হক ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি করতেন। তিনি সোশ্যাল সেক্রেটারি ছিলেন। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে তিনি জিতেছিলেন। সেই সময় মুসলমান ছাত্র তাঁরা মাত্র চার-পাঁচজন ছিলেন। তারপরও তিনি অনেক ভোটে জিতে যান।

এর পরের বার সবাই মিলে রফিক-উল হককে হারাবে বলে ঠিক করল। তাঁর কাজ ছিল ছাত্রদের বই, ক্যান্টিন, ট্যুরের ব্যবস্থা করা। তখন ক্যম্পাসের বাইরে রাস্তার পলিটিকসে জড়িত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। আর তিনি যুব কংগ্রেস করতেন। কংগ্রেস বলতে ন্যাশনাল পলিটিকস নয়। তিনি তখন ওয়েস্ট বেঙ্গল যুব কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তখন তাঁর নেত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন সেন্ট্রাল যুব কংগ্রেসের সভাপতি আর তিনি ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গলে। সুতরাং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বহুবার দেখা হয়েছে, বহুবার মিটিং হয়েছে, সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছে। একটা খুব বড় মিটিং করেছিলেন সল্টলেকে, ইন্দিরা গান্ধী, নেহেরু, বিধান রায় ছিলেন। সে আরেক ইতিহাস। কলকাতায় পড়ার সময় তাঁর বন্ধু ছিলেন ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

পেশাজীবনের শুরু

ভালো রেজাল্টের বিশেষ গুরুত্ব আছে। ছিলও সবসময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন উপাচার্য যখন শুনলেন রফিক-উল হক ব্যারিস্টারিতে হিন্দু ল-তে ফার্স্ট হয়েছেন, তখন তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়ে নিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু আইন পাঠ্য হয় তখনই। রফিক-উল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পরীক্ষক ছিলেন। তাঁর সময় ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার ইশতিয়াক হোসেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল, রেহমান সোবহানের স্ত্রী সালমা সোবহান ছিলেন। ড. এম জহির পরে আসেন। সবাই খুব নামকরা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করে খুব তৃপ্তি পেতেন ব্যারিস্টার রফিক।

্আইনজ্ঞ হিসেবে তাঁর অবদান

সামাজিক নানারকম কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও ব্যারিস্টার রফিক আইনের মানুষ। কাজেই দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তিনি সবসময়ই সোচ্চার। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের দাবি তুলেছেন অনেকবার। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে তিনি সব সময় উচ্চকণ্ঠে দাবি তুলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশে সত্যিকারের আইনের বিচার প্রতিষ্ঠা হলে দুর্নীতি থাকবে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। দেশে যেন আইন মানার জন্য নয়, ভাঙার মধ্যেই সবাই কৃতিত্ব দেখেন। সাধারণ মানুষই শুধু নয়, মন্ত্রী-এমপি আর পুলিশ—সবাই আইন ভাঙেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। রাজনৈতিকভাবে আদালত চলতে পারে না। বিচারক নিয়োগে রাজনীতি হয়। বিচারকাজেও রাজনীতি হয়। এসব রোধে একটি নীতিমালা প্রয়োজন। এই নীতিমালা রাজনৈতিকভাবে বিচারক নিয়োগ রোধে সহায়ক হবে।

গত নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের সময় বহিরাগতরা সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে ঢুকে আইনজীবীদের ওপর হামলা করলে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের জানাজা হয়ে গেছে। তিনি বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায় ফাঁস হওয়ার ঘটনায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার। এ ঘটনার পর ব্যারিস্টার রফিক মন্তব্য করেছিলেন যে, এ ধরনের ঘটনা বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করে। রায় ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে।

 মহত্হূদয়ের প্রতিভূ

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক জীবনের উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই ব্যয় করেছেন সমাজসেবায়। যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মানবতার সেবায়। বলতে গেলে তেমন টাকাপয়সা রাখেননি নিজের ব্যাংক হিসাবে। তাঁর জীবনের বড় ইচ্ছাই মানুষের সেবা করা; সেই লক্ষ্য থেকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, এতিমখানা, মসজিদ ও মেডিক্যাল কলেজ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করছেন। এছাড়া ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুবর্ণ ক্লিনিক; ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখেন। বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও নূরজাহান ওয়ার্ড, আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান, আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান রফিক-উল হক। আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানসহ নানা সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

ন্যায্য কথায় অনড়

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সরাসরি সমালোচনা করতে পছন্দ করেন। ন্যায় ও সত্যের পক্ষে থাকেন। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না। রাজনীতি বা আদালতের যেকোনো ঘটনা সম্পর্কে আইন ও ন্যায়সঙ্গত কথা বলতে পছন্দ করেন তিনি। এতে যে যা-ই মনে করুক, তিনি তাঁর মতামত প্রকাশে দ্বিধা করেন না। কারো সঙ্গে তাঁর কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। ফলে সত্য কথা বলতে তিনি কোনো দ্বিধা করেন না। দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা হোক—প্রবীণ আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এটা চান। আর তাই তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনীতিবিদদের গণতন্ত্রের চর্চা করতে পরামর্শ দেন। ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই এ দুজনের পক্ষেই আইনি লড়াই করেন ব্যারিস্টার রফিক। শুধু এ দুজনেরই নয়,  আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল জলিলসহ অন্য অনেকের পক্ষেও মামলা পরিচালনা করেন। তিনি ওই সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষেও মামলা পরিচালনা করেন।

পরিবার প্রিয়জন

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের চিকিত্সক স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ২০১১ সালে। পারিবারিক জীবনে তাঁদের একমাত্র ছেলে ব্যারিস্টার ফাহিমুল হক। তিনিও বাবার সঙ্গে আইন পেশায় জড়িত। ২০১১ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে ব্যারিস্টার রফিক খুব একাকীত্ব বোধ করেন। প্রতিটি মুহূর্ত এই যাতনা তাঁর ওপর ভর করে। তবে ছেলেবউ, একমাত্র নাতনি আর বাড়ির অন্য সদস্যদের সাহচর্য সেই মানসিক যাতনা দূরে ঠেলে দেয়। রফিক-উল হক নিজেও ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। স্টমাক ক্যানসার হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে অপারেশন হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ আছেন। স্টমাকটি অপসারণ করা হয়েছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। একই সঙ্গে তাঁর বাঁ পাঁজরের তিনটি হাড়ও অপসারণ করতে হয়েছে। তারপরও তাঁর মধ্যে উচ্ছলতার কমতি নেই। অবসরে বই পড়েন আর ক্রিকেট খেলা দেখার প্রতি রয়েছে বেশ দুর্বলতা। বেশির ভাগ খেলাই তিনি টেলিভিশনে দেখেন।

বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী, দুই নেত্রীরও

এটা বিরল ঘটনা এবং এদেশের কোন আইনজীবীর ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়ও। লড়েছেন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে, পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবীও ছিলেন তিনি, ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীও। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কী আপনার? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে পেরেছি। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকেও ওয়ান-ইলেভেনের সময় জেল থেকে মুক্ত করে এনেছি। আবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াকেও জেল থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। এটাই বড় পাওয়া। এখন আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

মানবিক আইনজীবীর বাতিঘর ও সাদা মনের মানুষ ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রত্যাশা, একটি সুন্দর বাংলাদেশের চেহারা দেখার। এখনো সেই ভাবনায় অধীর অপেক্ষায় থাকেন তিনি। এখন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে। আরও ভালো হবে। তিনি স্বপ্ন দেখেন—এই দেশে একদিন হানাহানি, সহিংসতা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হবেই। নিশ্চয়ই হবে।